চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী

দেশে আসছে বড় আকারের বিনিয়োগ, সুগম হবে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথ

দেশে বড় আকারে বিদেশী বিনিয়োগ আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আগামী দিনে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করতে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রাম সফর করছেন।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাব হবে না। আগামী দিনে আমরা চট্টগ্রামকে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চাই। এখানে বন্দর আছে, লজিস্টিকস হাব হবে, এর সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়নও গড়ে উঠবে।

ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন বিধিবিধানের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার বাজেটে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কথা জানিয়েছে। এটি আরো কার্যকর ও বাস্তবায়নের জন্য নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে আজকের বৈঠকও একটি।’

বন্দর ও কাস্টমসের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বাড়ার অন্যতম কারণ বন্দরে অতিরিক্ত খরচ ও কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতা। বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। বন্দর ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা যৌথভাবে বসে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করেছি। প্রতিটি সমস্যার সমাধান কী হওয়া দরকার, সে সিদ্ধান্তও নিয়েছি এবং তা লিপিবদ্ধ করেছি। কোন সিদ্ধান্ত কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বন্দর ও কাস্টমসের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে বন্দর ও কাস্টমস যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক আগে থেকেই ছিল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে বন্দর-কাস্টমস যাতে কাজ করতে পারে, সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বন্দরের সমস্যা ও কাস্টমসের সমস্যা নিয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে বসে সমাধান করবে। এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ মিলেই নেয়া হয়েছে। এগুলো শিগগিরই কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম আরো গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দরে খরচ বাড়লে সেটি জনগণকে দিতে হয়। কাস্টমসের কারণে খরচ বাড়লেও সেই ব্যয় জনগণকেই বহন করতে হয়। এ খরচগুলো যাতে আগামী দিনে জনগণের ওপর চাপাতে না হয়, ব্যবসায়ীদের ওপরও না চাপাতে হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের টিকে থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় না থাকলে আগামী দিনের বিশ্ববাজারে আমরা টিকে থাকতে পারব না।’

আরও